ত্রিকাল-নব্বই দশকের কবিতা

কবিতা:
সরকার আমিন ‖ অনিকেত শামীম ‖ জাকির আবু জাফর ‖ ওবায়েদ আকাশ ‖ মুজিব ইরম ‖ রাতুল হরিৎ ‖ মিলু শামস্ ‖ রহমান মুজিব ‖ কামরুজ্জামান ‖ রুহুল কাদের ‖ হামিদ রায়হান ‖ চিনু কবীর ‖ নূর কামরুন নাহার ‖ ফরিদ ভূইয়া

ত্রিকাল
শিল্প-সাহিত্য বিষয়ক ছোটকাগজ
৫ম সংখ্যা
ফেব্রুয়ারি ২০২১

সম্পাদকীয়ঃ
শিল্প-সাহিত্য চলে গেছে হীরক রাজার বারামখানায়। সেখানে সে ডুগডুগি বাজায় আর এটাওটা কুড়িয়ে খায়। এই বৃত্তি যারা অপছন্দ করে এবং সাহিত্যের মূলধারাকে যারা নদীর ক্ষীণ স্রোতের মতো হলেও বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তাদের অন্যতম যোদ্ধা লিটলম্যাগ আন্দোলন। সে আন্দোলনের একজন নগন্য অংশীদার হিসেবে ত্রিকাল বরাবরই লেখার গুণগত মানকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার সে আরও সমৃদ্ধ। গত বিশ বছর ধরে নরসিংদীসহ অন্যান্য জেলার কবিগণ কী ধরণের কাজ করছেন, তাদের মান কেমন, সে-সাথে নব্বই দশক থেকে তাঁরা কতটুকু এগিয়ে এসেছে, তার একটা সংকেত নিয়ে ত্রিকাল এবার পাঠকের সামনে হাজির হচ্ছে। থাকছে সময়ের উল্লেখযোগ্য পাঁচজন কবির গুচ্ছ কবিতাসহ সমৃদ্ধ গল্পভাণ্ডার এবং তিনটি প্রবন্ধ।
এ সংখ্যার পেছনে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যে পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার গ্রিন জেনেরিক সংগঠনকে জানাই অভিনন্দন। সে-সাথে যারা লেখা দিয়ে সাহায্য করেছেন তাঁদের প্রতি রইলো আন্তরিক ভালোবাসা।

সরকার আমিন
আবার জন্ম হলে

মানুষের আসলে জন্ম হয় বারবার। মৃত্যুও হয় বারবার। ‘আমারে তুমি অশেষ করেছো এমনই লীলা তব’!
আবার জন্ম হলে আমরা একই হাইস্কুলে পড়াশোনা করবো। ঘাস ফড়িং-এর পিছু ধাওয়া করতে করতে চলে যাবো উছালিয়া পাড়া। একটা কাঠের সেতু। নিচু দিক থেকে বহমান বৃষ্টির ধারা। ভিজতে থাকবো।

সারারাত বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে ঘুম যাবো সকালে। মসজিদ থেকে ভেসে আসা নির্ভেজাল আযানের সুরে ঘুমুতে যাবো; ঘণ্টা বাজবে মনমন্দিরে; আমাদের সব পোষা কাক কা কা করে বিরক্ত করার চেষ্টা করবে; আমি বিরক্ত হবো না, ঘুমুব।

আবার জন্ম হলে আমি তোমাকে টেলিফোন করবো বুদ্ধিজীবীদের হাট থেকে। ট্রাংকল। তোমার মামি আমাকে জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা, বিয়ে যে করতে চাও কত বেতন পাও তুমি?

আবার জন্ম হলে তাকিয়ে থাকবো আধা-পাকা ধানক্ষেতের দিকে। হেঁটে যাচ্ছো তুমি গোধূলির দিকে। তোমার ধ্যানমগ্ন মুখের দিকে চেয়ে রব বেলাজার মতো।

মানুষের জন্ম হয় বারবার। আশা করি, আল্লাহ মানুষকে বারবার জন্মাবার অনুমতি দেবেন।

অনিকেত শামীম
দূরাগত পাহাড়ের সুর

আজও পাহাড় দেখার তীব্র বাসনার কথা মনে হলে
চুপিচুপি তোমাদের গ্রামে যাই। আজ হাটবার…
প্রচন্ড ভীড় ঠেলে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়–তে থাকি —
বড় রাস্তা থেকে আলপথ
আলপথ থেকে ক্ষেতের কোণাকুণি…

শস্য কাটা হয়ে গেলে পড়ে থাকে হাহাকার

বিরাণ মাঠে আমাদের প্রেম-পর্ব
গোল্লাছুট দাড়িয়াবান্ধা
দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে পড়ে থাকে শূন্য মাঠ…

সেই তালগাছ বরাবর হাঁটতে থাকি
যতোই নিকটে যাই পাহাড় ততোটা সরে সরে যায়
এভাবে কতোটা সময় জমা হয় জীবনের খাতায় ?
বরং হাটের ভীড়ে মিশে যাওয়া ভালো
হাট মানেই অনন্ত শৈশব, জাগ দেয়া পাটের গন্ধ…

উজান বাতাসে ধূসর নস্টালজিয়া
দূরে কোথাও বাঁশি থেমে গেছে
নিরন্তর প্রবাহমান তার রেশ হঠাৎ হঠাৎ
থমকে দাঁড়ায় রাখালিয়া বোহেমিয়ান…

শৈশবের আরেক নাম হাহাকার– হারিয়ে যাওয়া প্রবেশ পথ…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *