পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্প

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্প 

রবিউল আলম নবী 

কেবল একটা গল্প লিখার; বলা চলে লিখতে না পারার ব্যর্থতা আমাকে মুষড়ে দিচ্ছে। থিম। একটা থিম চাই। কাফকার মতো। একটি তেলাপোকাথিম। এমন থিম— যে থিম পৃথিবীর কেউ ব্যবহার করেনি। আমার রান্নাঘরে হঠাৎ আলো জ্বালালে পঞ্চাশ-ষাটজন গ্রেগর সামসা ঘুরে বেড়ান। আমি কেন একটাও তেলাপোকাথিম পাই না। এত টিকটিকি ঘরে— একটা টিকটিকিথিম পাই না। কেন?

মাথার ভেতর যত গল্প আছে সব চর্বিতচর্বণ। লেহ্য-পেয়-চোষ্য। বন্য-আদিম-পৌরাণিক-লৌকিক-আদিভৌতিক গল্পে মগজঠাসা৷ অজানা একটা কাহিনি চাই। অনৈতিহাসিক। কিংবা প্রগৈতিহাসিক। কোনো মুখ বলেনি— কোনো কান শোনেনি— এমন।

আজ সারাদিন— কানপোনার আশায় একনিষ্ঠ মাছরাঙার মতো বসেছিলাম খাতা-কলমসমেত; একটি গল্পপোনা ধরতে। পারিনি। লিখতে না পারার যন্ত্রণা গর্ভযন্ত্রণার চেয়ে কম নয়। বসে থাকতে থাকতে তরুণাস্থি আরো বাঁকা হয়ে গেছে— মেরুদণ্ডে টান লেগেছে— মগজের ভেতর ফুটে ওঠেছে শিঙের ঘাই কিন্তু গল্প আসেনি। গত তিন মাসে একাত্তরজন লেখকের গল্প পড়লাম। কেউ মন ভরাতে পারছেন না— সকলেই হালের লেখক। তারা যে ভাষা ব্যবহার করেন তা অনুসারীভাষা। এইসব আনসার-অনুসারী ভাষা দিয়ে তো আর বাঁকবদল চলে না। আমার চাই ধর্মগ্রন্থের মতো একটা নিজস্ব ভাষা, থিম, কাহিনি, আইডোলজি।

সুররিয়েলিজমের ভেতর সুপারন্যাচারেলিজম এলে মনে হয় জ্যোৎস্নার সাথে এলুভেরার মিশ্রণ ঘটে গেলো। রিয়েলিজমের সাথে ন্যাচারেলিজম এলেও তাই। একেকবার ইচ্ছে করে ডাডাবাদী হই। মনে যা আসে লিখি। এ আন্দোলন কাব্যে হলেও গল্পে উল্লেখযোগ্য নয়। কিন্তু সবই তো পরস্ব, নিজস্ব কী?

প্রেম একটা চিরকালীন ব্যাপার। প্রেমের ভেতর মায়াসভ্যতার রহস্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু সেই তো নর আর নারী। শরীর উপচে অতিশরীরীয় কিছু। মনের বাস্তুভূমিতে কল্পনার চাষাবাদ। তাও ভালো। কিন্তু এমন স্নিগ্ধ প্রেম কই? সবখানেই শরীরের কিউবিক নৃত্য। আমি তো রাখালদাস নই— মাংসের মহেঞ্জোদারো নগরী আবিষ্কারে মেতে ওঠি। আর মিলিয়ে দেখি মনের মেসোপোটেমিয়ার সাথে মাংসের মহেঞ্জোদারোর কি কি মিল ও অমিল আছে। 

আমি একটা গল্প লিখতে চাই। সে গল্পটি মহাসাগরের মতো স্তব্ধ কিন্তু গর্জনশীল। ব্রোঞ্জের মতো কঠিন তার গাঠনিক বুনন কিন্তু মিষ্টির মতো কোমল। গল্পটি পড়ার পর মনে হবে— এটি আমার কথা কিন্তু আমি জানতাম না। গল্পপাঠের প্রাপ্তি একটা দীর্ঘশ্বাস। 

তাই আমি ইতিহাসের আশ্রয় নিই। ইতিহাস যেহেতু মিথ্যার আকর সেহেতু নির্ভিকচিত্তে আমি লিখি…

সম্রাট নেবুচাদনেজারকে নিয়ে দীলিপ দার দোকানে সিগারেট খেতে গেলাম। যে লোকটার শাসনামলে প্রতিদিনকে বারো জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করেছিলো সেই লোকটার হাতে ঘড়ি নেই; অথচ আমি ফার্স্টট্র্যাক পরি। তার কফি খাওয়া দেখে বুঝলাম— বাপজন্মে কফি খায়নি। আমাকে জিজ্ঞেস করলো— আজ কী বার; কিন্তু তার শাসনকালে সপ্তাহকে সাতদিনে বিভক্ত করা হয়। যেহেতু সে বন্ধু আমার, বলি, শালা, কোনো প্রশ্ন না করে কফি খা— চাইলে সাথে একটা বেনসনও নিতে পারিস। 

কিন্তু গল্পটি আমি কেটে ফেলি। আর লিখি না। কারণ ইতিহাসের এমন অনেক চরিত্রকে বর্তমানে টেনে এনে গল্প বলার ভঙ্গিটা নতুন নয়। নেবুচাদনেজার হয়তো রাগ করবেন। মনে মনে বলবেন একটা ব্যাবিলন শহর চালালাম কিন্তু তোকে দিয়ে একটা গল্প লিখাতে পারলাম না। অথচ এটা একটা বিষয় ছিলো সম্পূর্ণ নতুন। কেননা পৃথিবীর কেউ আমাকে নিয়ে একটাও ছোটগল্প লিখেনি। মর শালা।

একবার ভাবলাম নদী বিষয়ক গল্প লিখবো। কিন্তু ভঙ্গিটি একেবারে নতুন। এমন ভঙ্গিতে কেউ নদী নিয়ে গল্প লিখেনি। লিখলাম…

সেবার নদীর পারে বেড়াতে গিয়ে দেখলাম, যেখানে নদীটি বাঁক নিয়েছে নৈঋতের দিকে; সেখানে কোমর বাঁকা করে শুয়ে নদীটা ঘুমিয়ে আছে। গায়ে হাত দিয়ে ডাকলাম— এই ওঠো, আর কতো, সন্ধ্যে হয়ে এলো যে— চলো বাড়ি যাই। ডাক শুনে মাতামুহুরি নদীটা আমার আঙুলে ধরে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে হাঁটা শুরু করে দিলো। জলজ শরীরে জলজ শাড়ি পরে ভেজা অঙ্গে সে হাঁটতে পারছে না। একবার বুক বেরোয় তো একবার পেট। নদীর ভেজা পিঠে কচুরিপানার আল্পনা খুব মনে ধরলো আমার। যে ক’টা নৌকা, ড্রেজার, ট্রলার গায়ে উল্কির মতো বসেছিলো সবক’টা এঞ্জিনের গর্জন তুলে দৌড়াতে শুরু করলো। 

মনে মনে ভাবছি— ঘরে আমার সুন্দরী স্ত্রী আছে, এমন করে ঘুম ভাঙিয়ে নদীটাকে সাথে করে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি। তবুও নিয়ে এলাম। স্ত্রী কিছু মনে করলো না। মাতামুহুরিকে বিছানায় শোয়াবো কি সোফায় বসাবো বুঝতে পারছি না। তার জলতরঙ্গের শব্দে আমার ঘর মুখরিত। ট্রলার-ড্রেজার হুইসেল বাজাচ্ছে। পালতোলা নৌকা ছুটছে। সব ভেবে বললাম— তুমি বরং বিছানায় শুয়ে পড়ো। এক দিগন্ত বালিশে রেখে অন্য দিগন্ত সাপের শরীরের মতো আঁকাবাঁকা হয়ে মাতামুহুরি বিছানায় শুয়ে পড়লো। দুই পারে তার বালির ঔজ্জ্বল্য। 

তারপর কেটে ফেলি। আর ভালো লাগে না। কারণ মাতামুহুরি যে একটা নদী এই ধারণা বাদ দিলে তা স্রেফ একটা নারী হয়ে দাঁড়ায়। এবং নারী হলে তাতে আর গল্পের চমক থাকে না। একটা বালখিল্য কাহিনিতে পরিণত হয়।

হাজার হাজার ফুট গভীর একটা গল্প প্রয়োজন আমার৷ দেহের ভেতর রক্তের মতো কয়েক হাজার ফুট গভীর। গল্পের ভেতর হিমোগ্লোবিনের কারুকাজ। গল্পটাকে ধরা যাবে না— ধরলে বনরুইয়ের মতো গুটিয়ে নেবে নিজেকে। অথচ সাপের মতো ফুঁসফুঁস গতিতে এগুবে। জ্যোৎস্নার গন্ধের সাথে অন্ধকারের গন্ধ মিললে যে আলোয়ান্ধকার গন্ধ তৈরি হয় তেমন গন্ধ থাকবে তার। রূপ হবে তীর্থযাত্রী তরুণীর মতো ঝলমলে— যৌবন ও পবিত্রতার রাসায়নিক মিশ্রণে স্নিগ্ধোজ্জ্বল। বাক্যের পরতে পরতে থাকবে কাব্যের অলংকার। পুরো বাইশ ক্যারেট।

তেমন গল্প পেলে কালি নয়— রক্তে লিখতাম। বুকের ভেতর ফুটো করে তর্জনীতে লাগিয়ে লিখতাম। প্রতিটা বর্ণে রক্তমায়া মিশিয়ে। কাল একটা গল্প লিখা শুরু করেছিলাম। গল্পটা এমন…

কামসূত্রের চিত্রকল্পের ভেতর থেকে ওঠে এসে মোনালিসা বললো, তোমাকে শৃঙ্গার শেখাবো। 

বললাম, কামসূত্রম— মুখস্থ আমার।

মোনালিসা বললো, তাহলে বলো নদীর সাথে নদীর মিলনে কোন শৃঙ্গারসূত্র কাজ করে? কিংবা নদী যখন সাগরে মিলায়?

বললাম— এমন কিছু তো কামসূত্রে নেই। তুমি চাইলে ইন্দ্রশৃঙ্গার, শিবশৃঙ্গার শেখাতে পারি।

সে বললো— সূর্যরশ্মির প্রখরতায় চন্দ্রকিরণ অবলুপ্ত হয়। কিন্তু আকাশপ্রকৃতি তারও মিলনদৃশ্য তুলে ধরে— তুমি কি তেমন শৃঙ্গার দিতে পারো আমায়?

বললাম, না।

সে বললো, কামসূত্র শৃঙ্গারদৃশ্য আর শৃঙ্গারসুর দিয়ে ভরা। আমি তোমাকে আদি ও অকৃত্রিম শৃঙ্গার শেখাতে চাই।

এটুকু লিখে পাতা ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দিই। এই আদিরসের বাহন প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য থেকে শুরু করে আধুনিক সাহিত্য পর্যন্ত প্রচুর হয়েছে। অতৃপ্তি ও বিতৃষ্ণায় ভেতর গুলিয়ে আসে আমার। দেবতা থেকে মানুষ পর্যন্ত কোথায় সম্ভোগকলা নেই? আমি তো নতুন কিছু চাই। 

পৃথিবীতে অনেক পরে জন্ম হয়েছে আমার। দু’হাজার বছর আগে জন্মালে সবই নতুন থাকতো। এতো এতো ইজমের জন্ম হতো না। রোমান্টিসিজম, এন্টিরোমান্টিসিজম, ফবিজম, ডাডাইজম, ফেমিনিজমের কপচানিতে পড়তে হতো না। তখন আমি যা লিখতাম— তা থেকে নানা ইজমের জন্ম হতো। আদি গল্পকারের শেরপা নিয়ে শিরচূড়ামনি হয়ে বসে থাকতাম। এখন তো পৃথিবীর সব জেনে তারপর নিজের ব্যতিক্রম সুরটা তালে-ছন্দে তুলতে হয়; সেই তাল-ছন্দের জ্ঞানও অন্য থেকে ভিন্ন হতে হয়। নিজস্ব ভাষা, নিজস্ব স্টাইল ছাড়া লোকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

আজও সারাদিন— কানপোনার আশায় একনিষ্ঠ মাছরাঙার মতো বসেছিলাম খাতা-কলমসমেত; একটি গল্পপোনা ধরতে। পারিনি। আজও লিখেছি— প্রেমের গল্প; তবে অসমাপ্ত—

আমাদের দেখাটা আরো শৈল্পিক হতে পারতো। কথোপকথনে প্রবেশ করতে পারতো কাব্যিক ঢং। আর মুখোমুখি বসার দূরত্বটা নান্দনিক হতে পারতো এক গাছের এক ডালে ফোটা দুটো বেলীফুলের মতো। কিন্তু তা হয়নি। তার কারণ— সোফিয়ার বোধের ভেতর খেলা করছে সামাজিকীকরণ, আর আমার মগজে নেচে যাচ্ছে বিবেকের ভরতনাট্যম। তবুও আমরা একটা বিকেল বসেছিলাম। বসেছিলাম— সমাজঅরণ্যে। একটা ক্যাফেটেরিয়ায়।

শেষ বিকেলের ম্লান আলো আমাদের দেহে; ওর চল্লিশ বছরের মুখে, আমার ছেচল্লিশ বছরের পিঠে। সোফিয়ার দীর্ঘশ্বাসে কফির কাপ গরম, আমার দীর্ঘশ্বাসে কফির কাপ ফেটে কফি পড়ে গেছে টেবিলের গ্লাসে। আমাদের কথার ভেতর কোনো সৌন্দর্য ছিলো না—

সোফিয়া বললো— তুমি অনেক বুড়ো হয়ে গেছো।

আমি বললাম— তুমিও।

অথচ সোফিয়া বলতে পারতো— তুমি এখনো আগের মতোই আছো। তেমনি বোকা-সোকা— তেমনি প্রেমিক।

আমি বলতে পারতাম— তুমি এখনো অমিত্রাক্ষর ছন্দই আছো— ঝরঝরে— গতিশীল, যেহেতু আমি বাঙলার প্রফেসর। 

কিন্তু আমরা তা বলিনি।

সোফিয়া মাধ্যমিকের ম্যাডামের মতো শেষ বিকেলের আলোয় আমার বুড়োত্ব আবিষ্কার করেছিলো— আমি তার বুড়িত্ব। অথচ বিধবা সোফিয়ার রক্তে আমাকে পাবার পিপাসা— আমার রক্তের ভেতর সোফিয়াকে পাবার খাণ্ডবদাহন। ও তৃষ্ণায় মরছে— আর আমি জ্বলনে জ্বলছি। ওর কথা না হয় বাদই দিলাম— আমিতো জানি আমার রক্তে-মাংসে আকাঙ্ক্ষার দাবানল কী বীভৎস শিখায় জ্বলছে। হাড়গোড় পুড়ে ফাঁটার শব্দ পাচ্ছি। শিরাগুলি টানটান হয়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে। আমি কেন বললাম— সেও বুড়ি হয়ে গেছে? আমি তো বলতেই পারতাম— এই উত্তরচল্লিশেও তোমাকে চাই। 

আর লিখিনি। শুধু এটাই নয়। আরো একটা লিখতে শুরু করেছিলাম। লিখেছিলাম… 

জীবনের মধ্যপ্রান্তে এসে ইমতিয়াজের মনে হলো, অনেক তো বেঁচে থাকা হলো— আর কেন? অস্থি-মজ্জায় দেবে গেছে দারিদ্র্যের চাকা। কবে কোনদিন পেট পুরে তিনবেলা ভাত খেয়েছিলো— মনেও আসছে না। কপালটা পড়ে গেছে পাথরের তলে— দমকা ঝড়েও নড়ছে না— যদি পাতার তলে পড়তো, হালকা বাতাসেই তা উড়ে যেতো। বেরিয়ে আসতো টাকসমেত পুরো ছয় ইঞ্চি বিশাল ভাগ্য। তা আর হলো কই? 

ইমতিয়াজ রশি নিয়ে ছাতিমতলার দিকে যাচ্ছে। রাত্রির অন্ধকার ও নৈঃশব্দের ভেতর নিজের পদধ্বনিকে নিজের প্রতি পরিহাস বলে মনে হচ্ছে। পেটে আগুন, চোখে আগুন, মনে আগুন। ঘৃণা উঠছে গুলিয়ে গুলিয়ে। হাস্যকর এই বেঁচে থাকাটার প্রতি বেদম হাসি আসছে তার। তাই একা একা হাঁটে আর হাসে। একটু পর যে মানুষটা গলায় মৃত্যুকে প্যাঁচিয়ে নেবে সে অমন করে হাসে কীভাবে? 

তারপরও হাসতে হয়। জীবনকে সশরীরে সামনে পেলে যে লাত্থাতো কিংবা থাপড়াতো তার তো বেদম হাসি ছাড় আর কিছু করার নেই। হয়তো এখন হাসিই তার মৃত্যুর মহৎ মহৌষধ।  

ইমতিয়াজ ছাতিমগাছের ডালে মৃত্যুরশি বেঁধে গলায় মৃত্যুমালা পরে নিলো। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো উত্তম দে। কোথায় তাকে বাঁচাবে তা না করে সে বললো— মরে যাচ্ছিস, ইমতিয়াজ? 

হুম।

তাই মর।

ওপারে গিয়ে তোর ভগবানকে জিজ্ঞেস করিস, যে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটাতে পারে না— সে মানুষ সৃষ্টি করে কেন?

ইমতিয়াজের প্রতি আমার মায়া হয়। ওর দারিদ্র্যের সৃষ্টিকর্তা তো ওর ভগবান নয়— এখানে ভগবান আমি। তাই নিজের প্রতি বিতৃষ্ণা আসে৷ লেখক যদি ভগবান হয় তবে সে কতো নিষ্ঠুর হতে পারে! আর তার দৃষ্টান্ত আমি? তাই গল্পটি লিখিনি আর।

শেষমেষ এখন আমার মধ্যে নতুন ভাবনার উদয় হয়েছে। এই ভাবনাটা বাস্তবিত হলে আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্যতিক্রম গল্পটা লিখে যেতে পারবো। নিশ্চয় অন্য কেউ এমন গল্প লিখেনি। আজ বিকেলেই তার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া আমার হয়ে গেছে। 

বউ ওই রুমে ঘুমোচ্ছে আর আমি এ রুমে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্পটি লিখতে বসেছি। গল্পটি হচ্ছে— আমি এখন বিষ খাবো। বিষ খাওয়ার পর আমার মৃত্যুযন্ত্রণার ধারাবাহিক বর্ণনা লিখবো। একটা গল্প লিখার জন্য নিশ্চয় পৃথিবীর কেউ এমন ত্যাগ স্বীকার করেনি। আমি এখনই বিষ খেয়ে গল্পটা লিখতে বসলাম।#

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *