নাজমুল আলম সোহাগ

তুমি তো সেই কক্ কক্ কক্

সবচেয়ে আনন্দ কীসে?

জ্ঞান…

যা তুমি জানতে না

আজ তাই জেনেছো

কবি হয়ে পিপাসার্ত

বিষণ্নতায় কেটে যায়…

নিকট অতীতেও জ্ঞানের দেখা মেলে কি?

অবশেষে স্বস্তি এলো

আশ্বিনের শেষ রাতের স্বস্তি

ডিম পাড়া মুরগীর কক্ কক্ স্বস্তি

বলে ; সজাগ থাকো কক্ কক্ কক্

গিরগামেশ হয়ে আর্যের গোঁজামিল

রিপন আমাকে স্বস্তি দেয়

জ্ঞান আমাকে জড়িয়ে ধরে

কৌতূহলী শীত আনাগোনা চারিদিক…

আল আমীন

ঈশ্বরের ঘ্রাণ

নির্লজ্জতা ভুলে কমপ্লক্সে কথা বলে

ঝুলে থাকে স্মৃতি তোমার উৎসবে

অপরূপ মনে হয় দূষণ সভ্যতা

তাবিজে কেটেছি খাল মিলে

মিশে নেবো ঈশ্বরের ঘ্রাণ

আমায় দিবে বলে বিক্রি করলে

শুকুনের কাছে! জটলা প্রেম পড়ে রইল

 বিমুখ চেহারায় পথ চেয়ে

বাড়ি ফিরি বিনাশ ডেকে আনি

মশাল জ্বালিয়ে অঢেল ঈশ্বর

সমাগম ঘটাই তবুও মন মানে না

বিক্ষোভ বাঁধা লাটিমের নেশায়।

শাহীন সোহান

দরোজা

বুকের ভেতর থেকে থকথকে শাদা দুটো ডানা

গজালো তবে, দুই হাতে চেপে পুরে দাও তাদের

অভ্যন্তরে-অন্ধকার। উর্বর ব্যথা বিরোধ এ-পঞ্চখাদ

নিশ্চিত জ্যামের লেজে হামাগুড়ি  দেয়

                                       দুলুনি প্রবল

                                       দুলুনি প্রবল

অচেনা অনেক নাম লিখে ফেলো ফেলো খাতায়

অনেকে তাদের এসে বুকে টোকা দেয়

চোখে রাখে চোখ, চিবুকে চিবুক

তুমি দূরবিনে ঝুকে আসো শুধুই

প্যান্ট খোলো। মোজা খোলো। মাংশ খোলো

               এই তো সেদিন কেউ

দশ জোড়া জোনাক কাঁধে নিয়ে বিব্রত

মাথা ঠুকে চলে  গেলো ডানের জলের দিকে

পরাগায়ন সুখের তোড়ে ভাসা ভাসা ক্যানভাস

               ফিরে যায় কোনো অসাড় স্বভাবে

 দেয়ালে হোঁচট খায় তীরছোড়া আঙুল

(এতো রূপ এতো প্রজ্ঞা এতো নাচ)

নিষিদ্ধ ছিলো কি ধুলোর চত্বরে

জমা হতে নগরের ঝাঁক!

আমাকে  পেরোলে নগর

আমাকে  পেরোলে প্রণয়

আমাকে  পেরিয়ে একগাদা রাইফেল

গুড়ো হয়ে ঢুকে যাবে একটি জবার পাঁপড়িতে

জহির জুনায়েত

প্রতিক্রিয়া: চলতি শরতের দিনে

গ্রাম্যরোদে আমি যা যা ছিটিয়েছি বীজতলায়, তা উস্কে দিলে

 উৎসুক শরীরে ব্যথা হয় নিশ্বাস। সে ব্যথা হেঁটে যায় কড়ইপাতার মর্মর শব্দ না হওয়া আল ধর। সুতোয় গাঁথা হলে হাওড়রে ফুল, আমরা ভুলে যাই বিগত শীতের স্বচ্ছ মায়াভোর। তবুও আমরা হাঁটি শাদা  মেঘেদের বন, অহম সম্ভাবনায়।

আমি কিংবা আমরা জানি শরতে কখনো আমাজন এভাবে পুড়তে চায় না, তবুও পুড়লো। তুমি কিংবা আমরা জানি শাদা কাশগুচ্ছ দাবানল হয়ে এভাবে ফুটতে চায় না, তবুও ফুটলো।

তবুও শরীরে উৎসুক ব্যথা হয় নিশ্বাসে সতেজ আকুতির দিনে প্রাণবন্ত ইশারায়। এমন অযথা পার্বনের দিনেও রঙিন ছুতোয়  কেউ কেউ দাঁড়িয়ে কদমফুল  দেখে অবলীলায়।

আখতার জামান

শীতের আখ্যান

নদীটি  গেছে সরে

মাথার উপরে একটি গাছ ছায়া দিতো

পরিষেবা দিতো না পারার ব্যর্থতায়

সেও অভিমানে পালানোর পায়তারা করছে

বুদ্ধির দরজাটা খিলসাঁটা,

জানালাও বন্ধ

বিশ্রামে গেছে রাষ্ট্র,

রাষ্ট্রের যত সুখ-শান্তি

জাতির বিবেকও সাময়িক অন্ধ।

কবিতারা কি জড়িয়ে রাখে

সহায়-সম্বল-থালা-বাটি-ঘটি?

তারাও আজ কাছে নেই।

সবাই যখন সরে সরে দূরে

শীত তখন স্বভূমিকায় আষ্টেপৃষ্টে ধরে

আজহারুল হক লিংকন

পুলসিরাত

জাহান্নাম  থেকে বেরিয়ে এসে একটি রাস্তা সোজা

চলে গেছে জান্নাতুল  ফেরদৌসের দিকে জনমের পাপ

আর কয়েক কোটি জাতি শয়তানের দীর্ঘশ্বাস  পেছনে রেখে রাস্তা ছুটছে

রাস্তা চলেছে জাহান্নাম  থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস

উগান্ডা থেকে লন্ডন।

এই রাস্তার টিকিট কিনতে বিক্রি হচ্ছে বোনের ভাই, ভাইয়ের বোন

পিতার স্বপ্ন আর মায়ের স্তন

 এ  যেন দুনিয়ার ময়দানে নাজেল হওয়া সফলতার পুলসিরাত

রাস্তা চলেছে জাহান্নাম  থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস

ঢাকা  থেকে নিউইয়র্ক।

ফাইজুল কবির

বরফপানির বাণিজ্য

যখন সবিতা মাথায় হাত বুলিয়ে যায়

পদধূলি উস্কে দেয় হাওয়ার সাথে সমসত্ব চুক্তিবন্ধের

নির্মল হাওয়া মাতাল থেকে হয় উন-মাতাল

আমরা সবিতাকে বুকেপিঠে নিয়ে দৌড়াই স্টেশন- স্টেশন

তৃষ্ণাতুর গলা ঠোঁট একটু বরফপানির উষ্ণতায় কাঙাল হয়

তখনই জেগে ওঠে বহুজাতিক কোম্পানি

অলি-গলি, রাস্তার মোড়, কনফেকশনারিতে জমে ওঠে

বরফপানির রমরমা বাণিজ্য। বরফপানির বাণিজ্য।

মমিনুল ইসলাম

কাগুজে ফুল

একটা দেশ

চোরাবালির বিবরে

মৌসুমী বাতাস ভারি

কান্না-আর্তস্বর-হাহাকার

স্বপ্ন-খেকো-শোষক

একটা সময়ে নেতা-দেবতা

ভালোবাসা-চেতনা-দেশপ্রেম

কাগুজে ফুল

পেছনের দরোজা

গোপন আলাপন

কানার হাট-বাজার

শরিফ আহমেদ

কবিতা

সেই সত্য বলার নাম হতে পারে কবিতা।

সেই প্রথম আকুতি,  সেই প্রথম মুগ্ধতার দূরবর্তী ঘৃণা,

 যেখানে ধ্বনিত হচ্ছে দৃষ্টিগ্রাহ্যতার বাহিরে অন্যজগত।

সেই সত্য বলার নাম হতে পারে কবিতা।

সেই সত্য, সেই বিনির্মান,ছায়া  যেখানে ছায়ার মত নয়। মায়া  যেখানে মায়াবী নয়।

সেই কল্পিত ধারণার আগে পরে আরও অনেক মুখ। মনুষ্য নাও হতে পারে।

হয়তো সেই সুদূরের তারকারাজি

হয়তো মায়ের শ্লোকাদির আবেশে

রাতের ধারনাদি

কবিতা সেই  স্রোতের তরঙ্গ মুছে ফেলেই

যেন বইতে চাওয়া এক নদী।

সেই সত্য বলার নাম হতে পারে কবিতা

নির্জনতাপ্রিয় মানুষের বিবেকে আমূল জাগিয়ে তোলা।

ভাষার যে সরবতা, ভাষার যে পারস্পরিক আন্তরিকতা,

সেই আতিশয্যকে মান্য করে কণ্টক বাসর রচনা করা।

আবার ভাষার যে আলোড়ন সে আলোড়ন বুকে ধারণ

করে কবিতার ব্রতে পৃথক সমাগমে শব্দের মাঝে লুকিয়ে থাকা।

কবিতা হলো সেই সত্য, সেই রাজসিক, যাকে

কল্যাণকর জেনেও নির্বাসন দেয়া হয়েছে প্রজাদের ইচ্ছানুসারে

সেই সত্য বলার নাম হতে পারে কবিতা।

আলোক  যেমন ধ্রুব, অন্ধকারও যেমন ধ্রুব।

সেই আলো আর অন্ধকারকে মিশিয়ে মিশিয়ে

অন্য আলোয় রূপান্তরিত কর

কাজী বর্ণাঢ্য

ব্যাধি

প্রতিদিন মাঝপথে নোখ উল্টানো ব্যাধি

রক্তাক্ত পা সিঁড়ি ভিজিয়ে

মা মা ডাকে

বাজারের প্রাণবন্ত ধূলো বিষণ্নতায়

আত্মহননের মালা গাঁথে

বালিহাঁস হয়ে সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনে ভাসে…

ডুবে…

ডিকবাজি খায়…

দূরারোগ্য চোখ প্রতদিন দেখে  দেখে

কড়কড়ে বিক্রয়

পথের গভীরে সুইয়ের বল্লম

রক্তনদীতে কাঁকড়ার ঝাঁক

অবাক অবাক মানুষ

আর নষ্ট বাণিজ্যের আভিজাত্য

মা-

এ আমার কেমন ব্যাধি

শিলপাটায় নিজেকে পিষে

রোজ রোজ হাড়ের ভর্তা বানাই!

 খাদিজা ইভ

ফেরা

সময়ের দেয়ালে বিশ আঙুলের লুকোচুরি দিন-রাত, বাঁধভাঙা উল্লাস চলে গেছে অমোঘ টানে___ আমরা ফিরতে পারি না।

উঠোন জুড়ে সোনালি পদচিহ্ন পোর্ট্রেটে আঁকা, স্বপ্ন বুনা জালে জড়িয়ে ছিলে এক প্রহর; মনে হয় যুগ যুগ ধরে___ কাটছে না ঘোর, শুধুই হাহাকার নেমে আসে।

খসে পড়া জীবনের মায়াবী জোৎস্নায়, সন্ধ্যাতারা গুঁজেছিলাম চুলে ধূলিঝড়ে ডুবে গেছি এমন কোলাহলে।

পুকুরে ফেলে রাখা টোপে জানালার কাঁচ নেমে আসে নিঃশব্দে অপেক্ষায় থাকে একটি পাখি।

এমরানুর রেজা

প্রথম সত্য আজও মিথ্যা

মানুষ পাপ কাজ করে। লোকে বলে শয়তানের প্ররোচনা। শয়তান কার প্ররোচনায় করেছিল পাপ– অমান্য করেছিল পরম দয়াল? মানুষের পায়ে চুমু দিয়ে দেখি মানুষ মহান। মানুষের হাতে হাত রেখে দেখি মানুষ অসামান্য ধনবান। ফুল ফল ঘাসময় মানুষের ইতিকথা। মানুষ হাসলে সূর্যজোয়ার নামে পৃথিবীর পাতায়– কাঁদলে নদীজল দেখায় তীরঘেষা জোয়ার। জোয়ার

ভাটায় পড়ে আয়ুরেখা খেলা করে– চোখে বালুপড়া কথা নিয়ে মাস্টার সাজে কতশত ধর্মরূপকথা।

ভুলফল

ভুলকল

ভুলদল

নাপাক থেকে পাক

পাক থেকে নাপাক

শুরু থেকে শেষ

শেষ থেকে শুরু

গুরু থেকে জুরু আদার ব্যাপারী– জাহাজের খবর

প্রথম সত্য আজও মিথ্যা

আজও সত্য নয় প্রদর্শিত ধর্মপর্দা

অর্থের শখ বালুতে মিশে যায়

অর্থের যশ কথাসুখ দোতরায়

ঢিল দিলে দেখা যায় জলের নাচন

মিথ্যা সুখে প্রাসাদ বানায় কুরুক্ষেত্র আশ্বিনের মাস

ফাল্গুনে সবুজ পাতায় ব্যর্থ সংসার

যা দেখো যা দেখাও ব্যর্থ সবই সন্ধ্যা বেলায়

কাগজের নৌকায় জলে নেমে জলে ডুবে যাওয়া

এতো শূন্যতার ভেতর কাকে বলি বলো তুমি প্রভু আমার– আমার প্রভু আমি হয়ে দেখি শূন্যতার কারবার — বিশাল গাঙচিল থেকে ঘাসের জীবন ধানক্ষেতের শব্দ অদ্ভুত অধরা ভয়ঙ্কর চপল– আরো ভেতরে গেলে গভীরতা ফেটে যায়– শয়তান বলতে যা কিছু বোঝায় সবই অগভীর ফাটল।

মেহেদি হাসান সুমন

অপেক্ষায়

কার্তিকের পরিমিত ঠাণ্ডা

নরোম রোদ আর সবুজের ঢেউ

অগ্রহায়ণের ভোরে তাল সড়ক

হাড়িধোয়ার টলটলে জল

কাশফুলের নরোম জীবন

আশ্বিনের পূর্ণিমা

কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া

শ্রাবণ বর্ষণ

স্থানের দূরত্ব

কিন্তু কোথায়…

মহসিন সিকদার

শুধুই অপচয়

ভালবাসা, স্নেহ, মমতা এবং সময়;

ভালবেসে চেয়েছিলাম টিকে যাক একটা সম্পর্ক

চাঁদ, অমাবস্যা, অধীর অনন্ত রাত

বড়ো বেশি শীতল আজকাল

হয়তো এভাবেই সময় নেয় সময়ের শোধ।

শহিদুল ইসলাম অপু

|জীবন শেখায় জীবনকে

জীবন প্রতিমুহূর্তে জীবনকে শেখায়

কাঁটাতারের মতো টুঁটি চেপে ধরে

স্বর্ণলতা হয়ে প্যাঁচিয়ে আছে আপাদমস্তক।

বেহিসাবি ঋণের মতো বাড়ন্ত

আবেগের ডানায় প্যারালাইসিস ব্যাধি।

ক্যান্সারে মৃতপ্রায় মনকায়ায়

সবুজ ঘাসের মতো ঘুণপোকার মাস্তানি।

রেললাইনের মতো বয়ে চলা নদীর জল ইদানিং

আগন্তুক চরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আলাদা পথে।

বেঁধে দেয়া ঘড়িতে টিক টিক হেঁটে চলে আলো-আঁধার।

জীবন শেখায় জীবনকে।

একান্ত বাসনায় নিরুদ্দেশ মুসাফির পা চালায়

একচ্ছত্র অধিপতি অভিমুখে।              

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *